মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

মুক্তিযুদ্ধে রাজৈর

 

1) রাজৈর উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় পাক বাহিনীর ক্যাম্প ছিল টেকেরহাট। এ অঞ্চলে নদী পথে পাকবাহিনী রাজাকারদের সহায়তায় ভেন্নাবাড়ী নেমে ১৯৭১ সনে ৭ই জৈষ্ঠ্য রোজ বুধবার সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ করে। রথবাড়ী এলাকায় নির্মম ভাবে ঘর বাড়ীতে আগুন দিয়ে প্রায় ১০/১২ জন মানুষ হত্যা করে। আড়ুয়াকান্দি, কদমবাড়ী, মৃধাবাড়ী লুট করে গৃহে অগ্নি সংযোগ করে এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের যাকে পায় তাকেই হত্যা করে। পাকবাহিনী উল্লাবাড়ী, ছাতিয়ানবাড়ী, সেনদিয়া, খালিয়া গ্রামে আত্ম গোপনকারী মানুষকে খুজেঁ খুজেঁ ১২৫ জনকে হত্যা করে। উক্ত স্থানে ৪টি গণ কবর এখনও সে ভয়ংকর দিনগুলো মনে করিয়ে দেয়।

2) আমগ্রাম ইউনিয়নে পাকবাহিনী বৈশাখ মাসে আক্রমণ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের ঘর বাড়ী সহ আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘর বাড়ী পুড়িয়ে দেয়। অসংখ্য মানুষ হত্যা করে। বদরপাশা, ইশিবপুর, বাজিতপুর, ও অন্যান্য ইউনিয়নগুলোতে পাকবাহিনী রাজাকার আল-বদরদের সহায়তায় খুজে খুজে মানুষ হত্যা করে। ঘর বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ দিয়ে লুটপাট চালায়।

 

            রাজৈর উপজেলায় মুক্তিবাহিনীর সাথে পাকবাহিনীর কয়েকটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নিন্মে তার সংক্ষিপ্ত বর্ননা করা হল।

Ø ১৯৭১ সনের আগষ্ট মাসে বদরপাশা নয়ানগর মোড়ে মুক্তিবাহিনীর সাথে সকালে সরাসরি পাক বাহিনীর যুদ্ধ হয়। অনেক্ষণ যুদ্ধ চলে। এ যুদ্ধে ১ জন পাকসেনা নিহত হয়।

Ø ১৯৭১ সনের ১২ই অক্টোবর রোজ মঙ্গলবার মুক্তিবাহিনীটেকেরহাট ফেরী অপারেশন করে। অত্যান্তসাহস ও দক্ষতার সাথে পাকবাহিনী টেকেরহাট ফেরী ধ্বংস করে। ঐ যুদ্ধে শহীদ হয় খবিরউদ্দন। যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন হাফিজুর রহমান।

Ø ১৯৭১ সনে ২১ নভেম্বর শনিবার রাত্রে মুক্তিবাহিনী তিনভাগে বিভক্ত হয়ে থানা আক্রমণ করে। সরা রাত যুদ্ধ হয়। সরোয়ার হোসেন এবং নজরুল পান্নার নেতৃত্বে শাতাধিক মুক্তিবাহিনী এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। প্রকাশ থাকে মুক্তিবাহিনীর গোলাবারুদকমে যাওয়ায় তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পাকবাহিনী গ্রামে ঢুকে পরলে মুক্তিবাহিনী মাদারীপুর আশ্রয় নেয়। ঐ দিন ছিল ঈদের দিন। কিন্তু যুদ্ধের কারণে মুক্তিবাহিনীঈদ পালন করতে পারেনি।

Ø বৌলগ্রাম ব্রীজে পাক হানাদারের সাথে চলন্তপথে রাজৈর ও মাদারীপুরের মুক্তিবাহিনীর সাথে যুদ্ধ হয়। এ সময় রাজৈর ও মাদারীপুরের মুক্তিবাহিনীযৌথ ভাবে পাক বাহিনীদের আক্রমণ করে।  এ যুদ্ধে ০১ জন পাক বাহিনী মৃত্যুবরণ করে এবং পাক বাহিনীদের অনেকেই আহত হয়।

Ø রাজৈর ব্রীজে প্রথম রাজাকারদের সাথে পরে পাক বাহিনীদের সাথে এক যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে একজন মুক্তিবাহিনী শহীদ হন।

Ø  টেকেরহাট দু’দিন এক রাত্রি পাক বাহিনীর সাথে মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ হয়। মুক্তিবাহিনীর গোলাবারুদ ফুরিয়ে গেলে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ যুদ্ধে পাকবাহিনীর অনেক ক্ষতি হয়।

Ø পাখুল্লার আশু বালার বাড়ীতে মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প ছিল। রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকবাহিনী ঐ ক্যাম্প আক্রমণ করে। মুক্তিবাহিনী ও পাকবাহিনীদের সাথে প্রবল যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে আলাউদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন। এ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন আবদুল কাদের মোল্লা এবং মাদারীপুরের খলিল বাহিনী।

Ø মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় ইশিবপুরে চারম্ন মজুমদারের বাড়ী মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প ছিল। পাক বাহিনী এ ক্যাম্প আক্রমণ করে এবং আশ পাশের হিন্দু বাড়ী ঘরে অগ্নি সংযোগ করে।